শিক্ষা ও গণতন্ত্রের মুক্তির পথ
The Path to Freedom for Education and Democracy
আমাদের অন্তহীন সম্ভাবনা কেন বারবার অনন্তে হারায়, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখি; ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আমরা যে বাঁধা পরি দাসত্বের শৃঙ্খলে, আমরা যে আপন করে নেই মিথ্যা, সঠতা, কপটতাকে, আমরা যে সর্বদাই দাবিয়ে কিংবা থামিয়ে দেই নিজেদের কণ্ঠস্বরকে, এবং প্রতিটি ভাল কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে আমাদের পরনির্ভরশীল মানসিকতাও এজন্যে দায়ী।
আমি মনস্তত্ত্ববিদ নই, তা সত্বেও আমার কাছে মনে হয়, দাসত্বের এই শৃঙ্খল মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রভাবক মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এর প্রথমটি হল ভয় এবং দ্বিতীয়টি হল লোভ। ভয় মানুষের বিনয়ের মাত্রাকে অতিরঞ্জিত করে এবং সামান্যতম সুযোগেই জলোচ্ছ্বাসের মতো আছড়ে পড়ে নিজেকে শৃঙ্খল হতে মুক্ত করে। কিন্তু লোভ মানুষকে এতটাই তলানিতে নামিয়ে নিয়ে যায় যে, বিবেকের দুয়ার তার চিরকালের জন্য রুদ্ধ হয়ে পড়ে। বোধের এই অসাড়তা তাকে করে তোলে আরো বেশি স্বার্থপর, ভীতু, আর চরম একা। তখন সে কেবল বাঁচতে চায়, সে- নিতান্তই বাঁচার জন্য। সেই বাঁচা কেবল ধ্বংসের জন্য; সৃষ্টির লক্ষ্যে নয়।
এখন যদি প্রশ্ন করা হয়, মানুষের লোভী হয়ে ওঠার এই প্রভৃতি কি জন্মগত তথা প্রকৃতি নির্ভর?
টমাস হবসের মতো দার্শনিকরা উত্তরে হ্যাঁ বলে যে শক্তিশালী শাসকের ভিত্তিকে আরো মজবুত করেছিলেন, তাতে কপাল পুড়েছে গ্যালিলিওর মত বিজ্ঞানীদের, এতে পৃথিবী দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছিল জ্ঞানের আলো হতে।
আমি বরং রুশোর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলবো, "জন্মের পর পরই মানুষ আবদ্ধ হয় সিস্টেমের চেনে"। সেই সিস্টেম যতটা নিপুণ হবে, একজন মানুষ ঠিক ততটাই সুনিপুল হয়ে বেড়ে উঠবে। এ নিয়ে বিতর্ক চলে, তবে সত্যিটা হলো এই: স্বাধীনতা, বিপ্লব কিংবা গণঅভ্যুত্থান যাদের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়- তারা যদি স্বার্থপর না হয়ে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর সিস্টেম প্রণয়নে বেশি মনোযোগী হন; তবে তা টিকে থাকে অনেক দিন। উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা পরবর্তী সিস্টেম প্রণয়নের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, তবে দেখতে পাবো যে: কি করে জর্জ ওয়াশিংটন নিজেকে তৃতীয়বার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া থেকে বিরত রেখেছিলেন, কি করে তারা স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল শক্তিকে একত্রিত করে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, কি করে তারা নিজেদের জন্য উপযুক্ত শাসন ব্যবস্থা নিজেরাই গড়ে তুলেছিলেন।
এখন হয়তো অনেকের মনে প্রশ্ন জাগবে, ওটা তো আমেরিকা! ওদের সাথে কি আর আমাদের তুলনা চলে? তাদের উদ্দেশ্যে বলা যায়, আমেরিকার সাথে যে আমাদের অনেক মিল। আমাদের মত তারাও একটি ঔপনিবেশিক শক্তি হতে নিজের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে এনেছিলেন, আমাদের মত তাদেরও স্বাধীনতা পরবর্তী অন্ত কুন্ডল ছিল, আমাদের মত তাদেরকেও বৈশ্বিক মোড়লদের মোকাবেলা করতে হয়েছিল। তাদের সাথে আমাদের মূল পার্থক্যের জায়গা হল একটি, তাদের স্বাধীনতার নৌকার হাল ধরা মাঝি-মাল্লারা ছিলেন নিখাদ দেশ প্রেমিক, দেশমাতৃকার টানে তারা নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ছিলেন। স্বাধীনতার খলিফারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন একটি সুন্দর, সুখী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে। অথচ আমাদের স্বাধীনতা কিংবা অভ্যুত্থানের নায়কেরা ক্রান্তিকালীন সময় পার করেন নিজেদের আখের গোছানোর ব্যস্ততা নিয়ে। সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজন যে ঐক্যের, জ্ঞান আর গবেষণার, তারা তা না বুঝতে পারার অভিনয় করে মত্ত থাকেন মাঠ গরম করা রাজনীতিতে। এর ফলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময় মানুষের হতাশায় রূপ নেয়। দুটি অভ্যুত্থান কেবল উত্থানের রূপ ধরে মানুষকে স্বপ্ন দেখালেও কখনোই মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারেনি।
হে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, তথা নেতৃবৃন্দ, তোমাদের উদ্দেশ্যে বলছি: "যদি তোমরা সেই মহান পুরুষগণের মত স্বার্থপরতা, লোভ এবং হিংসাকে জলাঞ্জলি দিতে না পারো, তবে কোনদিনও স্বাধীনতা, বিপ্লব কিংবা গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিওনা, সাধারণ মানুষগুলো মার খেতে খেতে একদিন যখন বুঝতে পারবে তাদের আর কোনো উপায় নেই, তখন হয় তাদের মধ্য হতেই নেতার জন্ম হবে, নয়- তারাই নিজেদের নেতৃত্ব ঠিক করে নেবে"। আমি জানি সেদিন আর স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাত কিংবা স্বার্থের দ্বন্দ্ব ঘটবে না। তারা একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে ক্রান্তিকালীন সময় অতিবাহিত করবে এবং তাদেরই প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিস্টেম প্রণয়নের মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব হস্তান্তর করবে। সেদিনের সেই সিস্টেম হবে জনগণের আসা আকাঙ্খার প্রতিফলক, অবশ্যই সেই সিস্টেম হবে নিজস্ব প্রণীত এবং নিজেদের জন্য উপযুক্ত, যা স্বমূলে উৎপাটন করবে আভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে। যে পদ্ধতিতে লেখা থাকবে মানুষের স্বপ্নের কথা, যে পদ্ধতি নিঃসৃত হবে এদেশের মাটি হতে। যার পরতে পরতে লেগে থাকবে এদেশের মানুষ, মাটি ও আলো বাতাসের গন্ধ। সেদিনের সেই তরুণ-তুর্কি, নিঃস্বার্থ নেতৃবৃন্দের কাজকে একটু সহজ করে দিতে, এই ব্যর্থ প্রজন্মের একজন ব্যর্থ নাগরিক নিজের দায়ভার খানিকটা হালকা করার উদ্দেশ্যে, তেমন একটি সিস্টেম প্রণয়ন কল্পে একটি প্রস্তাবনা পেশ করাই এই লেখার উদ্দেশ্য।
ভূমিকা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছরে সংবিধান পরিবর্তিত তথা সংশোধিত হয়েছে ১৭ বার এবং গণঅভ্যুত্থান হতে হতে কেবল উত্থানেই এই জাতি আটকা পড়েছে দু' দুবার। এভাবে উত্থানের পর ক্ষমতাপ্রাপ্ত শাসকেরা সংস্কারের ভ্রতি গ্রহণ করেন এবং খনকাল তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রবল চেষ্টা করেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে সম্ভবত এই নিয়ে তিনবার গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো এই যে, এখন পর্যন্ত এ ধরনের সংস্কার পদক্ষেপের সুফল এই জাতি একবারও ভোগ করতে পারেনি। আমি বিশ্বাস করি এর প্রত্যক্ষ কারণ হলো যেকোন শাসন পদ্ধতি এদেশে প্রণয়নের পূর্বে তা একই আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পন্ন অন্য দেশে কতটা কার্যকর হয়েছে তার খোজ না নেওয়া এবং এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞ গণের পরামর্শ গ্রহন না করা। এর আরো অনেকগুলো পরোক্ষ কারণ থাকতে পারে যেমন: বৈশ্বিক মোড়ল গণের প্রভাব, রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাব, এবং দারিদ্রতা। অনুসন্ধানে আরও হাজারটা পরোক্ষ কারণ মিলবে। কিন্তু প্রত্যক্ষ কারণ যে নিজেদের ব্যবস্থাপনা নিজেরা প্রণয়নের অক্ষমতা, তাতে কোন সন্দেহ নেই।
এদেশের শাসনকার্য পরিচালনায় বর্তমানে যে ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সে পদ্ধতির আঁতুড়ঘর ইংল্যান্ড কি অন্য কোথাও হতে এটি আমদানি করেছে, নাকি এটি তাদের সেই দ্বাদশ শতাব্দীর মেঘনাকার্টার সংগ্রাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ক্রমাগত চেষ্টা এবং প্রচেষ্টার ফল! জানি এই প্রশ্ন যে পাঠকগণের মাঝে ছুঁড়ে দেয়া বাহুল্য, তা স্বীকার করে নিয়ে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসন পদ্ধতির দিকে একটু দৃষ্টিপাত করা হয়, তবে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিমান হবে যে, দেশটি নির্মাণের খলিফারা নিজেদের শাসন পদ্ধতি নিজেরাই প্রণয়ন করেছিলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে যদি ফ্রান্সের শাসন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করা হয়, তবে দেখা যাবে যে, পঞ্চম জনতন্ত্র (Republic) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে দেশটি ইতোমধ্যে প্রণীত এমন প্রতিষ্ঠিত শাসন পদ্ধতিগুলো নিজেদের দেশে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিল এবং এর ফলস্বরূপ পেয়েছিল অস্থিতিশীল সরকার। যারফলে বারবার পতন ঘটেছিল এক একটি জনতন্ত্রের, এবং ১৯৫৮ সালের আগে কোন সরকার দীর্ঘস্থায়ী শাসন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়নি। এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যে: (তৃতীয় এবং চতুর্থ জনতন্ত্রে ফ্রান্স প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিচালিত হতো)।
এভাবেই চারটি জনতন্ত্রের ব্যর্থতার পর দেশটি অনুধাবন করতে পারে যে, এই ব্যর্থতার পিছনের কারণগুলোকে চিহ্নিত করে তা সমাধান করা এবং সেই ভূখন্ডের মাটি ও মানুষকে ধারণ তরে, এমন নিজস্ব পদ্ধতি প্রণয়ন ব্যতিত এই অস্থিতিশীল অবস্থার অবসান হবে না। তাই পঞ্চম জনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সময় দেশটি আধা রাষ্ট্রপতি শাসিত (Semi-Presidential) শাসন ব্যবস্থার প্রণয়ন করে, যেটি তাদের নিজস্ব প্রণীত একটি শাসন পদ্ধতি এবং সে দেশটিতেই এটি প্রথম বাস্তবায়ন করা হয়।
যেখানে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের দূরত্ব এত কম, তাদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর এত মিল, তাদের সাক্ষরতার হার প্রায় সমান, সেখানে ইংল্যান্ডে প্রণীত শাসনব্যবস্থা ফ্রান্সের ক্ষেত্রে প্রণয়নে সুফল পাওয়া যায়নি- আর সেখানে বাংলাদেশ কতটা দূরের একটি বিষয়।
তাছাড়া এদেশের মানুষ গণতন্ত্রকে কতটা লালন এবং ধারণ করেন, তা এখনো পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। এখন অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবেন, এই দেশেই তো পঞ্চাশ বছরে দু' দুবার গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। উত্তরে তাদের উদ্দেশ্যেও একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া যায়, সংগঠিত সেই দু' দুবারের অভ্যুত্থানের ফল এদেশের সাধারণ মানুষের কতটা কাজে লেগেছে?। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে যখন একই সাথে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং গণভোটের অধিকার তুলে দেয়া হয়, তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য সভা সমাবেশ, হরতাল এমন আরো অনেক কার্যক্রম চোখে পড়েছে, সেই তুলনায় গণভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে তেমন কোন নাগরিক তথা জন কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি।
দ্রষ্টব্য: "যখন পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত হয়, তখন আমি নিতান্তই কিশোর, তাই আমার এই মতামত চাইলে খারিজ করে দেয়া যেতে পারে"। কিন্তু যদি আমার এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলো এই অভিযোগ কি করে খন্ডাবে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তথা বুদ্ধি-জিবি গণের উপর দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার যে পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তারা কোন নৈতিকতার বলে তা অস্বীকার করেছে- তা দেশের মানুষ জানতে চায় এবং সেই অধিকার তাদের আছে। শুধু তাই নয়, দেশের মানুষ কতটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অনুধাবন করতে পারেন কিংবা আত্মস্থ করতে পেরেছেন; এই নিয়ে ও প্রশ্ন উত্থিত হয়।
এই লেখার মাধ্যমে আমি এটি অস্বিকার করতে চাই না যে, গণতন্ত্র এদেশের জন্য উপযুক্ত শাসন পদ্ধতি নয়। আমি মনে করি, এখন পর্যন্ত বিকশিত সকল শাসন পদ্ধতির মধ্যে গণতন্ত্র হলো সর্বউৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা এবং জন আকাঙ্খা পূরণে এর বিকল্প নেই। আমি যা প্রমাণ করতে চাই তা হলো যেভাবে ইংল্যান্ড, জার্মান, ফ্রান্স, আমেরিকা কিংবা অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো গণতন্ত্রকে নিজেদের দেশের মাটি ও মাষের কল্যানে প্রয়োগ করার জন্য এর নতুন নতুন সংজ্ঞায়ন এবং ধরণ আবিস্কার করেছে আমিও তেমন একটি সংজ্ঞা এবং পদ্ধতির কথা বলছি। আমি এটি বলছি এই কারণে, যাতে করে আমার দেশের রাষ্ট্র বিজ্ঞানীগণ তাদের ভাবনার রুদ্ধ জগতের দুয়ার খুলতে উদ্যেগী এবং অনুপ্রানিত হন। দেশের সেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গণের উদ্যেশে বলছি, এই দেশে আমদানি নির্ভর গণতন্ত্র কতটা কার্যকরী হবে, তা ভেবে দেখার সময় হয়তো এখনো ফুরিয়ে যায়নি। তাই ভাবনার জগতের সেই রুদ্ধ দুয়ারে কড়াঘাত করতে এই নিবেদন।
পটভূমি
বাংলাদেশে আন্দোলন, স্বাধীনতা এবং অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পেছনে ছাত্রদের ভূমিকা যে অগ্রগণ্য, তা এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। তাই এদের সফলতার আড়ালে চাপা পড়ে যায় এদেরই কলঙ্কিত অধ্যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বায়ান্ন হতে ছব্বিশের আন্দোলনে ছাত্রদেরই একাংশের মারমুখী বিরোধিতার কথা। কিন্তু কেন তাদের এই বিরোধিতা? তাদের এরূপ সাহস সঞ্চয়ের উৎস্য কি? এটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে, তবু প্রথম প্রশ্নের উত্তরে অনুমান করে যা বলা যায় তা হল: ক্ষমতার আরো ছত্র-ছায়ায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ক্ষমতার চর্চা এবং নিজের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা বিধান করা। প্রসঙ্গত: এই অনুমানটি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের সময়কার পর্যবেক্ষণের ফলাফল। আমি দেখেছি আমাদের প্রথম বর্ষে গণরুমে অবস্থানকালীন সময়ে রাজনীতি করা যে বড় ভাইয়েরা প্রতিরাতে আমাদের উপর নির্যাতন চালাত, তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করল রাজনীতি করা আমাদের বন্ধু-বান্ধবেরা। আমি দেখেছি আমার রাজনীতি করা বন্ধু বান্ধবেরা কিভাবে সিনা টান করে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াত, যেখানে সেখানে বাকি খাওয়ার লাইসেন্স পেতো, এবং সময় সময়ে সালাম তথা সালামি পেত।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হল: বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-কানুন যারা নিয়ন্ত্রণ করেন, এই বেপরোয়া ছাত্রদের ক্ষমতার উৎস তারাই। কারণ তাদেরই চোখের সামনে দীর্ঘদিন যাবত গণ রুমের মতো বাজে ব্যবস্থাপনা চলছিল, রেগিংয়ের মত বাজে সংস্কৃতির প্রচলন ছিল, এবং তাদের এই আশ্রয় প্রশ্রয়ে রাজনৈতিক শিক্ষার্থীরা এখনো, এই উত্থান পরবর্তী সময়েও বিরোধী মত দমন, মারামারি, ছিনতাই এবং খুনের মত ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।
এই আলোচনা হতে প্রশ্ন উত্থিত হয়, এমন ঘৃণ্যতম কর্মকাণ্ডে একজন বিবেকবান শিক্ষক কেন জড়িত হন!
এই উত্তরও অনুমান নির্ভর হয়ে দিতে হবে, তবে এই অনুমান অনেক বেশি দৃশ্যমান।
বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা যাক।
বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব পেতে হলে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতির হাতে, খুবই পরিহাসের বিষয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছা অনুযায়ী। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন ওই দলের সমর্থনের ভিত্তিতে, এবং পরবর্তীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপাচার্য অন্যান্য পদ সমূহ তারই অনুগত এবং দলীয় শিক্ষকগণের মাঝে বন্টন করেন। আবার একজন শিক্ষককে উপাচার্য হতে হলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতি কতটা উদার, তারও প্রমাণ দিতে হয়। তাই একজন প্রশাসক, তিনি যতই যোগ্য হন না কেন, তাকে তার সমর্থিত রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়েই থাকতে হয়।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে আমরা অনেক আনুষ্ঠানিক তথা অনানুষ্ঠানিক বিতর্ক করেছি এই নিয়ে যে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক পদে নিয়োজিত হতে পারবেন, আমি বিশ্বাস করি এই বিতর্ক এখনো শিক্ষার্থী মহলে চলমান। আমি সব সময় এটি নিয়ে বিতর্ক করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করতাম যে, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রশাসক হওয়া উচিত নয়, এবং বলাই বাহুল্য যে; প্রতিপক্ষের ক্ষুরধার যুক্তির কাছে আমার অসহায় আত্মসমর্পণ ঘটতো। কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের কথা বারবার তুলে ধরতো, তারা বারবার শিক্ষকগণের বুদ্ধি ও বিবেকের কথা বলতো। আমি বাস্তবতার কথা উত্থাপন করলে তারা বলতো, "এটি মানসিকতার সমস্যা, নিয়মের নয়"।
আজ আর সেই অসহায় আত্মসমর্পণ নিয়ে আমার কোন আক্ষেপ নেই। কারণ সেই আত্মসমর্পণই আমার চিন্তার জগতকে দারুণ ভাবে প্রভাবিত করেছে, শিক্ষকগণের মানসিক দাসত্ব হতে মুক্তির পথ খুঁজতে সেদিনের সেই বিতর্ক এবং তাতে আত্মসমর্পণই আমাকে বাধ্য করেছে নতুন একটি পদ্ধতি প্রণয়নে আত্মনিয়োগ করতে। তাই এই লেখার মাধ্যমে আমি পরক্ষোভাবে তুলে ধরব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক নিয়োগ পদ্ধতি এবং প্রত্যেক্ষভাবে আলোচনা করবো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি। কারণ আমি বিশ্বাস করি রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া যদি গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার বাইরে এনে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে করা যায়, তবে দাসত্বের শৃংখল হতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণের মুক্তি ঘটবে, এবং বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ স্বৈরাচার হতে মুক্তি পাবে।
আমি এখনো ছাত্র, তাই অনুগ্রহ করে আমার উদ্যত ভাবকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার উত্থাপিত প্রস্তাব ভালো না লাগলে গঠনমূলক সমালোচনা করুন। সবচেয়ে বড় কথা, যে সমস্যাগুলো এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সত্য কি মিথ্যা, এটি যাচাই করুন এবং তা সত্য হলে সমাধানে আত্মনিয়োগ করুন।
প্রস্তাবনা
হাজারটা সমস্যার মধ্যেও বাংলাদেশ দুটি সমস্যা নিয়ে বারবার বিপর্যস্ত এবং জর্জরিত হয়েছে। এ দুটির মধ্যে প্রথমটি হল: স্কুল, কলেজ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী গনের তোষামদি প্রবৃত্তি অর্থাৎ রাজনৈতিক দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ হওয়া। দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো: একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং তার অধীনে আয়োজিত নির্বাচনী ফলাফল মেনে না নেওয়া।
এই দুটি সমস্যার সমাধান একই সূত্রে গাথা। এই দুটি সমস্যারই সমাধান হবে তখন, যখন রাষ্ট্রপতি অরাজনৈতিক ভাবে উপযুক্ত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। পদ্ধতিটি সম্পূর্ণরূপে অনুধাবনের জন্য একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর যোগ্যতা কি হবে, সে সম্পর্কে প্রথমে অবহিত হওয়া প্রয়োজন।
একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর যোগ্যতা
অরাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত হবেন বলে একজন রাষ্ট্রপতির যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব, এবং পরিচিতি তার সময়ের অন্য সকল জ্ঞানী ও বরেণ্য ব্যক্তিগণকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। এটি অনেকটা প্লেটোর ফিলোসফার কিং এর ধারণাকে সমর্থন করে, তবে প্লেটোর মতো ইউটিপিয়ান নয়। তার মত আমাদের রাষ্ট্রপতিকে পরিবার বর্জন করতে হবে না। আমাদের রাষ্ট্রপতিকে সকল বিষয়ে বিশেষজ্ঞও হতে হবে না। তিনি কেবল তার পেশার পাশাপশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উপর একটি ডিগ্রী অর্জন করলেই ছাড়পত্র পাবেন, তবে সেই ডিগ্রী অবশ্যই দেশ তথা বিদেশের প্রথম সারির সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্জন করতে হবে। নিম্নে একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর যোগ্যতা স্ববিস্তারে আলোচনা করা হলো।
১। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ক ডিগ্রী অর্জন: একজন রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান তার কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান যেহেতু রাষ্ট্রের সংবিধান থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অধ্যয়ন করে, তাই একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ব্যক্তিকে তার অর্জিত জ্ঞানের পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করা বাধ্যতামূলক।
২। নিজের অধ্যয়নকৃত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠা: একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ব্যক্তিকে অবশ্যই নিজের পঠিত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। কারণ তার এই বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠা কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতাকেই নির্দেশ করে না- বরং তার একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম, কর্মের বৈচিত্রতা ও গতিশীলতা এবং আন্তরিক নিবেদন কে বোঝায়। একজন ব্যক্তি তার অধ্যয়নকৃত বিষয়ে কতটা বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন, এটি যাচাই করতে বেশ কিছু মানদন্ড ব্যবহার করা যেতে পারে যেমন: মানসম্মত আন্তর্জাতিক জার্নালে তার কতগুলো গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে, তার গবেষণা কতটা দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, এবং একই সাথে তিনি কতটা শিক্ষার্থী বান্ধব। এখানেই শিক্ষার্থী বান্ধব বলতে নম্বর বেশি প্রদান করে শিক্ষার্থীদের মন জয় করা বোঝানো হয়নি। এখানে বোঝানো হচ্ছে, তিনি নিয়ম অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে পাঠ দান করছেন কিনা, গবেষণায় জড়িত কিনা এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে তার কোন ব্যর্থতা আছে কিনা, ইত্যাদি।
৩। জননীতি পরিবর্তন ও প্রণয়নে তার ভূমিকা: একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে অবশ্যই জননৈতিক সচেতনতার অধিকারী হতে হবে। নাগরিকের ভালো-মন্দ সম্পর্কে তার ইতোপূর্বের ভাবনা, মৌলিক মানবাধিকারের এর পক্ষে তার অবস্থান, এবং ক্ষমতা কাঠামোকে প্রশ্ন করার যোগ্যতা, ইত্যাদি এই সব কিছুই তাকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাবে এবং মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে তাকে প্রত্যয় করে তুলবে। এর ফলে তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন নেতা হিসেবেই গড়ে উঠবেন। সেই নেতৃত্ব কোন রাজা হওয়া কিংবা রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে না। সেই নেতৃত্ব জনস্বার্থ আর জননীতি প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
৪। নিরপেক্ষতা: একটি দেশের শিক্ষক এবং বুদ্ধিজীবী সমাজ যদি রাজনৈতিক লেজুর বৃত্তিতে জড়িত থাকেন, তবে সে দেশের পরিণতি কেমন হতে পারে তার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ। আমি জানিনা কেন একজন শিক্ষকের সমর্থিত রাজনৈতিক দল থাকবে, আমি জানিনা কেন একজন শিক্ষক একটি মাত্র রাজনৈতিক আদর্শকেই লালন করবেন, কেন রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামোর বদলের ফলে পরিবর্তন ঘটবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা কাঠামোতে, অথচ পরিবর্তন ঘটেনি আমলা কিংবা কোন সশস্ত্র বাহিনীতে- কি বিচিত্র এই দেশ, শিক্ষা ও সভ্যতার সাথে কি নির্মম পরিহাস। তাই একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী তথা রাষ্ট্রপতি হবেন দল-মত নিরপেক্ষ। যিনি অভিভাবক হবেন দেশের সকল জ্ঞানীগুণী ও বুদ্ধিজীবী গণের। যিনি আদর্শ নয়, জনস্বার্থ দিয়ে পরিচালনা করবেন দেশ। এর ফলে দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ রাজনৈতিক ব্যক্তিগণের পেছনে নিজেদের মূল্যবান সময় ব্যয় না করে আত্মনিয়োগ করবেন নিজের জ্ঞান ও গবেষণার উন্নতিতে। এভাবে দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ তাদের পেশাগত জায়গায় নিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ সমানে নিজেদের অধিষ্ঠিত করতে পারবে। এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষককে উপাচার্য কিংবা উপ-উপাচার্য পদ গ্রহণের জন্য কোন রাজনৈতিক দলের পদ লেহন করতে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কানুন এবং নিয়ম-নীতির মাধ্যমেই একজন যোগ্য প্রশাসক প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন, এবং দেশ পাবে একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় পরিচালক। যিনি নাম সর্বস্ব হয়ে নয়, জ্ঞানের আলোয়; নিজ গুনে উদ্ভাসিত করবেন দেশ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি
বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পরোক্ষভাবে অর্থাৎ সংসদ সদস্যগণের ভোটের ভিত্তিতে। এর মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানধারী ব্যক্তি কেবল অন্যের আলোতেই ঝলমল করেন, অন্যকে আলোকিত করার ক্ষমতা তার থাকে না। তিনি যেন ব্রিটিশ রাজা রানীর মত অতীতে অনেক গৌরব এবং খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাই এখন সুন্দর অবসর যাপন করছেন। অথচ বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে এই রাষ্ট্রপতি পদটি হতে পারতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প এবং স্বৈরাচার প্রতিরোধের অন্যতম সফল হাতিয়ার। সেই লক্ষ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হতো রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে। অবশ্য কিছুই অসম্ভব নয় বাংলাদেশের মত দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দেশে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে হয়তো এদেশে বাবা হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং ছেলে রাষ্ট্রপতি। তাই প্রস্তাবনার শুরুতে আমি বলেছিলাম রাষ্ট্রপতি হবে একটি অরাজনৈতিক পদ, এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বুদ্ধিজীবী সমাজের মধ্যে হতে। আমি জানিনা এর পরও আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে কিনা, নিজেদের ক্ষমতার কেন্দ্রে তুলে আনতে নিজের যোগ্যতা এবং দক্ষতার উপর নির্ভর না করে পুনরায় আবার তারা লেজুরবৃত্তির আশ্রয় নেবে কিনা। যাইহোক, আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি একটি সুখী, সমৃদ্ধ, সুন্দর বাংলাদেশের, সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো।
১। প্রত্যক্ষ নির্বাচন: বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। তবে সেই নির্বাচনে দেশের সকল নাগরিকের ভোট দেয়ার অধিকার থাকবে না, কেবলমাত্র যারা স্নাতক সম্মান ধারী; তারাই এই নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে পারবেন, তবে এই পদ্ধতির প্রধানমন্ত্রী তথা সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এর ফলে একজন স্নাতক সম্মান ধারী ব্যক্তি দুটি ভোট প্রদানের অধিকার রাখবেন।
২। মনোনয়ন পদ্ধতি: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বে একজন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে অবশ্যই মনোনয়ন গ্রহণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সাথে একজন প্রার্থীকে ১। নূন্যতম ১০০ জন প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধিজীবীর সমর্থন, ২। ২০০০ স্নাতক সম্মানধারী ব্যক্তির সমর্থনের প্রমাণ দাখিল করতে হবে। ( এখানে প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধিজীবী বলতে সেইসব পেশাজীবী মানুষদের বোঝানো হয়েছে, যারা নিজেদের পেশায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃত)। ৩। পেশায় বিশেষজ্ঞতা অর্জনের প্রমাণ পত্র: একজন প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রদত্ত সকল শর্ত পূরণ করেছেন এমন প্রমাণাদি দাখিল করা।
মনোনীত হওয়ার পর মনোনয়নধারী সকল প্রার্থীকে একটি সুনির্দিষ্ট আবাসস্থলে রাখা হবে। সেই আবাসস্থলটি হবে অনেকটা বিদ্যালয়ের মত, তবে সেখানে কোন শিক্ষকের উপস্থিতি থাকবে না, কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে। উক্ত স্থানে অবস্থানের সময়কাল প্রার্থীর সংখ্যার উপর নির্ভর করবে। কারণ যেহেতু সেখানে কোন শিক্ষক নেই, তাই সময়ের পরিক্রমায় কেউ হবেন শিক্ষক আবার কেউ শিক্ষার্থী। এভাবে সবাই সব স্থানে নিজেকে যাচাই করে দেখার সুযোগ পাবেন। সেখানে বিতর্ক হবে, পাবলিক স্পিকিং হবে, হবে উপস্থিত বক্তৃতা। তবে সেখানে কোন বিচারক থাকবেন না। তারা নিজেরাই নিজেদের বিচার করবেন এবং প্রাপ্ত নম্বর টুকে রাখবেন।
অবশেষে সময়ের শেষ দিন হবে নির্বাচন। একজন প্রার্থীকে তিনি ব্যতীত অন্য আরেকজন যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য বলা হবে, এভাবে এই সংখ্যা দুই এর মধ্যে নামিয়ে আনা হবে। তারপর এ দুজন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করবেন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে। সেখানে তারা তাদের স্বপ্ন, নীতিমালা এবং শপথ ব্যক্ত করবেন। তারা মুর্ত প্রতীক হয়ে উঠবেন "শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড" এই চিরন্তন সত্য প্রবাদের। তারা সেতু বন্ধন গড়বেন সভ্যতা ও শাসনের মাঝে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য
জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল থাকবে ছয় বছর। তিনি তিনটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা ও মর্যাদা ভোগ করবেন। সেগুলো হলো: শিক্ষা খাতের প্রধান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান, এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। স্বাধীনতার পর হতে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে খাতটি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, তাহল শিক্ষা। উননব্বই কিংবা ছব্বিশ, দুবারের জণ উত্থানের পর যে সংস্কারের রুপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছিল, তাতে শিক্ষা খাতের গুরুত্ব ছিল উপেক্ষিত। এছাড়া শিক্ষার খাতটিকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের আদর্শ প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করে থাকে। তাই এই খাতটি রাষ্ট্রপতির পরিচালনাধীন থাকবে, যাতে করে এর উন্নতি বিধান সম্ভব হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির পরিচালনাধীন হওয়ার মূল যুক্তি হল, সরকার পরিবর্তনের সাথে যাতে করে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা না থাকে। কারণ রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্য হলো জনস্বার্থের ভিত্তিতে বৈদিকসিক সম্পর্ক নির্মাণ।
ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা
রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়ই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বলে, তাদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাদের মধ্যে একজন রাজনৈতিক এবং অন্যজন অরাজনৈতিক বলে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কিংবা মুখোমুখি অবস্থানের সুযোগ বা ঝুঁকির আশঙ্কা তুলনামূলক কম। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি কেবল শিক্ষা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, এই তিনটি বিভাগ ব্যতিরেকে আর সমস্ত বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর এক্তিয়ারভুক্ত। তবে বাজেট তথা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যদি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মতবিরোধ দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রীতিনীতিকে মানদন্ড হিসেবে ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। এরপরেও যদি বিষয়টির মীমাংসা না হয়, তবে গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। বিষয়টি যদি নির্দিষ্ট কোন জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে উত্থিত হয়, তবে সমগ্র জাতিকে এই গণভোটে না এনে কেবল ওই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষের মতামত নেয়া হবে। এই পদ্ধতিটি আমি যেভাবে গণতন্ত্রকে সংঙ্গায়ন করেছি, তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতির দায়বদ্ধতা
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি বলে তিনি তার শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে কারো কাছে কোনরূপ নির্ভরশীল এবং দায়বদ্ধ নন তবে তাকে অপসারনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যাস্ত থাকবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির হাতে সংসদ ভেঙে দেয়ার কোন রূপ ক্ষমতা থাকবে না। তবে সংসদে আনিত বিলের উপর রাষ্ট্রপতি ভেটো প্রদানের ক্ষমতা থাকবে (শুধু মাত্র রাষ্ট্রপতি অপসারনের বিল ব্যতিত)। রাষ্ট্রপতি কোন বিলের উপর ভেটো প্রদান করলে বিলটি পুনরায় সংসদে প্রেরিত হবে এবং সংসদকে অবশ্যই তা আমলে নিতে হবে। কিন্তু যদি বিলটি পুনরায় দুইতৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য দ্বারা গৃহীত হয় তবে সেই বিলটি আইনে পরিনত হবে। কিন্তু সংবিধান বিষয়ক বিল অবশ্যই গণভোটে দিতে হবে। কখনো যদি সংসদ ও রাষ্ট্রপতি উভয় মুখমুখি অবস্থায় উপনীত হন তবে আন্তরজাতিক মানদন্ড প্রধান্য পাবে। এর পরেও সমাধান না হলে সুপ্রিমকোট বিষয়টির মধ্যেস্ততার চেষ্টা করবে। তারপরেও সমাধান নাহলে বিষয়টি গণভোটের মাধ্যমে নি:পত্তি হবে। বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশে জনগণ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। শাসকগোষ্ঠী জনগণের মতের অথবা সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করেই নিজেদের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এমতাস্থায়, তাদেরকে জনগণের দুয়ারে প্রেরণ ব্যতিত এই দুঃশাসনের অবসান হবে না। তাই এই ধরনের পদ্ধতির বিকল্প নেই।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন পেশাগত দক্ষতা, এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে, অর্থাৎ এই তিনজনের মধ্যে নূন্যতম দুজনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। একই সাথে তিনি অপসারিত হবেন সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যগণের ভোট এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে।
অপসারণ পদ্ধতি
জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপতি তার অধীনস্থ খাতগুলোতে অপার ক্ষমতা ভোগ করবেন। তবে তার প্রতিশ্রুত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নির্বাচিত হওয়ার প্রথম তিন বছরের মধ্যে বাস্তবয়নে অগ্রগতি দেখা না গেলে, কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ আঘাত এবং দেশদ্রোহীতা ব্যতীত একজন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আর অন্য কোন অভিযোগ দায়ের করা যাবে না। উপরোক্ত তিনটি অভিযোগের যেকোনো একটিতে অভিযুক্ত হলে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যাবে।
অভিযোগটি জাতীয় সংসদের এক চতুর্থাংশ সদস্যগণের দ্বারা প্রাথমিকভাবে গৃহীত হলে এটিকে বিল আকারে ভোটে দেয়া যাবে। উক্ত বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যগণের দ্বারা পাস হলে, নিম্নোক্ত সদস্য গণের মাধ্যমে একটি অপসারণ কমিটি গঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলীয় নেতা, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পরবর্তী দুজন বিচারক, উচ্চ আদালতের দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারক, এবং চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ। উক্ত কমিটির দ্বারা অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনরায় জাতীয় সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যগণের ভোটের মাধ্যমে একজন রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যাবে।
তাত্ত্বিক ভিত্তি
তৎকালীন গ্রিসের রাজধানী অ্যাথেন্স গণতন্ত্রের আতুড়র ঘর নামে খ্যাত হলেও, বর্তমানের গণতন্ত্রের সাথে সে সময়কার গণতন্ত্রের কোনরূপ সামঞ্জস্য নেই। তৎকালীন সময়ের অ্যাটেনিয়ান রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বরং গণতন্ত্রকে মন্দের ভালো শাসনব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যেমন প্লেটো গণতন্ত্রকে কেবলমাত্র স্বৈরশাসন ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি একটি উদাহরণের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন যে, যদি গণতন্ত্রের মাধ্যমে একটি নৌকার প্রধান মাঝিকে নির্বাচন করার পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়, তবে নৌকাটির প্রায় প্রত্যেক সদস্যই প্রধান মাঝি নির্বাচিত হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবেন, এভাবে সৃষ্টি হবে চরম বিশৃঙ্খলা। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে একজন যোগ্য মাঝি নির্বাচন করা অনেক বেশি দুঃসাধ্য। (Plato, The Republic, 488)
রিপাবলিক বইটি অধ্যয়ন শেষে এই বিষয়টি নিয়ে আমি দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা করতে থাকি যে, "কি করে গণতন্ত্রের এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে একজন যোগ্য শাসক কে খুঁজে বের করে আনা যায়"। কেন না, তার মতো অ্যারিস্টটলও যেখানে জোর দিয়েছিলেন এমন একটি শাসকের উপর, যিনি একটি রাষ্ট্রকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার যোগ্যতা রাখেন।
যাইহোক, অনেক বিবর্তন এবং সময়ের পরিক্রমার পর আধুনিক যুগের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গনের কাছে গণতন্ত্র আরও বেশি দৃশ্যমান একটি শাসন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। তাই তাদের হাতে গণতন্ত্রকে নতুন রূপে দেখার এবং সংজ্ঞায়িত করার অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদেরই মধ্যে দুজন বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হলেন রবার্ট দাল (Robert Dahl) এবং হান্টিংটন (Samuel P. Huntington)। তারা গণতন্ত্রকে জনগণের ক্ষমতাধীন শাসন ব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের শাসককে নির্বাচন করার অধিকার রাখে। তবে আধুনিক যুগে গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় আমার মতে যিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকন। তার সেই বিখ্যাত সংজ্ঞাটি হল, "Of the people, by the people, for the people"।
উপরোক্ত আলোচনা গণতন্ত্রের যে সংজ্ঞা এবং প্রয়োগ পদ্ধতি কে স্বীকার করে নেয়, আমি গণতন্ত্রকে ঠিক সে রূপে স্বীকার করি না। আমার কাছে গণতন্ত্র হলো, "যোগ্যতা অনুযায়ী নাগরিকের শাসক নির্বাচন এবং শাসনকার্য পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ক্ষমতা"। এই সংজ্ঞাটির আলোকে আমি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে সাজিয়েছি। যেখানে প্লেটোর সংশয় এবং আব্রাহাম লিংকন এর চিন্তা একইসূত্রে গাথা হয়। তাদের এই সংশয় দূর হয় যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তার পেশাদারিত্ব, বিশেষজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং তাকে নির্বাচন করেন একটি দেশের নাগরিকের সেই অংশ, যেটি রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতি সমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, এই প্রবন্ধ জুড়ে যে সমস্যগুলো আলোচনা করা হয়েছে তা সমাধানের চেষ্টার নিমিত্তে এই উপস্থাপনা। সমাধানের এই পদ্ধতি চূরান্ত বলে আমি মনে করি না। আমি বিশ্বাস করি আলোচনা, সমালোচনা এবং উত্তর-প্রতিউত্তরের মধ্যে দিয়ে হয় এই পদ্ধতি পরিপূর্ণতা পাবে নয় নতুন একটি পদ্ধতির জন্ম হবে। আসুন আমরা একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিনত করে কাজে লেগে পড়ি। কারণ "জ্ঞানই আলো, চিন্তাই শক্তি"।